,

সেমির পথটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়

News

একদিনের বৃষ্টি এবং একটি সহজ ম্যাচকে হাতছাড়া করে এখন নিজেদের মসৃন পথে নিজেরাই কাঁটা দিয়েছে বাংলাদেশ দল। গত ৫ই জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যদি ম্যাচটা জিততে পারলে তবুও আশা করাই যেতো বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলবে! এখন সেটা শ্যূন্যের কোটায়। যদিও টস জিতে ব্যাটিং করাটা খুব একটা ভালো হয়নি। ২৪৪ রানেট সহজ টার্গেটই কিনা দিন শেষে যথেষ্ট পুঁজি হয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশের। সাইফুদ্দিন-সাকিবের বোলিং তোপে একপ্রকার চেপেই ধরেছিলো বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে আর কিছুটা রানের আক্ষেপে পুরতে হয়েছে। তারপর আবার ইংল্যান্ডের সাথে অসহায় আত্মসমর্পণ করায় গতকালকের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচটা হয়ে উঠেছিলো ঘুরে দাড়ানোর ম্যাচ।

সাম্প্রতিক পারফরমেন্স বলে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার থেকে ঢের এগিয়ে। গত এশিয়াকাপেও তাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাস তাই তুঙ্গে নিয়েই গতকালকের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন মাশরাফিরা। কিন্তু সব পরিসংখ্যান, কাটাছেড়া করে অবশেষে জিতেছেন এবারের বিশ্বকাপের শক্ত প্রতিপক্ষ বৃষ্টি। টাইগারদের ঘুরে দাড়ানোর পথটা আরও কঠিন৷ এখন সেমিফাইনাল কথাটি উচ্চারন করার আগে ভাবতে হবে ৫টি বাধা ডিঙ্গানোর কথা। ১৭ই জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ম্যাচে র‌্যাংকিং ও কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের ৫৮ রানেই গুটিয়ে যাওয়ার ইতিহাসটা এখনও জ্বলজ্বল করছে। তার উপর দেখার বিষয় আমাদের এই মানের পেসাররা গেইল-লুইসদের কতটা সামাল দিতে পারে। কারন ওরা নিজেদের দিনে কতটা ভয়ংকর তা সবারই জানা গেইল,লুইস,হেটমায়ার,হোপ,রাসেলরা একাই ম্যাচ বের করে আনার সামর্থ্য রাখে। এর পরের ম্যাচটা বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোন সুখস্মৃতি না থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ক্রিকেটকে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলাটাই এই ম্যাচের আশা দেখাচ্ছে। তবে এটা একটু বিলাসিতাই বটে। তবুও আশা করতে দোষ কোথায়?

এর পর ২৪শে জুন পুচকে আফগানিস্তান! টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রশিদ-শেহজাদের বড় বড় কথা শোনা গেলেও মাঠে তার ছিটে ফোটাও দেখা যায়নি। প্রাপ্তির খাতায় তাই শুধু লংকানদের বিপক্ষে একটু চোখ রাঙানী। শেষ দুটি ম্যাচ প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্থানের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচটি ২’রা জুলাই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং এবারের বিশ্বকাপের হট ফেবারিট ভারতের বিপক্ষে। ভারতের বিপক্ষে আমাদের একটা মানসিক বাধা থাকলেও সাম্প্রতিক তাদের বিপক্ষে খুব কাছে গিয়ে হেরে আসাটা হয়তো জয়ের আগ্রহটা প্রবল করবে। শেষ ম্যাচটি আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তাদেরকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। আনপ্রেডিক্টেবল তকমাটা ওরা এমনি এমনি পায়নি। তার প্রমান বিশ্বকাপে প্রবেশের সময়ই দিয়ে রেখেছেন। প্রথম ম্যাচে ১০৫ রানে আল আউট হওয়া দলটিই কিনা পরের ম্যাচেই স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে গড়েছে রানের পাহাড়। হারিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের দাবিদার ইংল্যন্ডকে। তাই এটা বলাই যায় সেমি’র পথটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।

     এ জাতীয় আরও খবর
Vladimir Ducasse Jersey