,

শুভাগত হোমের জন্য শুভকামনা

News
শুভাগত হোম। ছবি: ইন্টারনেট

একজন টপ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে জোর করে অফ স্পিনার বানিয়ে লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করিয়ে ক্যারিয়ার নষ্ট করা হয়েছে তার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাল খেলার ফল হিসেবে ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক রাজকীয় অভিষেক হয়েছিল তার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবার রাজকীয়? অনেকে নাক শিটকাবেন। হ্যাঁ রাজকীয়ই। কারন জিম্বাবুইয়ান অভিষিক্ত পেসার ব্রায়ান ভিট্টরির বাঁ হাতের ঝড় সামলাতে যেখানে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস উঠেছিল। সেখানে সে চোখ ধাঁধানো সব শট খেলে ৫১ রানের এক রাজকীয় ইনিংস উপহার দেয় দেশকে। ঐ কন্ডিশনে তার এমন সাবলীল ব্যাটিং দেখে অনেকে স্বস্তির ঢেকুর তুলে বলেছিল এতদিনে মিডল অর্ডারে একটা মনের মতো ব্যাটসম্যান এলো আর রকিবুলের এক ঘেয়েমি ব্যাটিং দেখতে হবেনা। সেই অভিষেকের পর থেকেই দলের নিয়মিত অংশ হিসেবে একটানা কয়েকটা সিরিজ খেলেছে সে। তারপর হঠাৎ ছন্দপতনে দলের বাহিরে। পরে ফিরেছেন নিজ যোগ্যতায়। কিন্তু সঠিক মূল্যায়ন পায়নি। তৎকালীন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে একপ্রকার জোর করে তাকে দেশসেরা অফ স্পিনার বানিয়ে ৮ নাম্বারে পজিশনে খেলিয়ে গেছেন টেস্টে। যেখানে সে মোটেও স্বস্তিবোধ করতো না। আর ওয়ানডেতেও একই অবস্থা। প্রতিদিন ব্যাটিং অর্ডার চেঞ্জ করে খেলিয়ে মনোবল নষ্ট করে ছেলেটার ক্যারিয়ারই ধ্বংস করেছে হাথুরুসিংহে।

তার ক্যারিয়ার নষ্ট করতে যতটা হাথুরুসিংহে দায়ী তারচেয়ে বেশি দায়ী আমজনতা ক্রিকেটপ্রেমীরা। ফর্মে থাকা নাসিরকে ব্যক্তিগত বিরোধের কারনে কোচ না খেলিয়ে সেই ছেলেটাকে খেলিয়েছিলো। তাও তার পছন্দের পজিশনে নয়। আর নিজের অপছন্দের পজিশনগুলোতে খেলে একের পর এক ফ্লপ মারতে থাকে সে। আর এদিকে তৎকালীন কথিত নাসির ভক্তরা প্রিয় নাসিরের সুযোগ না পাওয়ার রাগ মেটাতে থাকে ছেলেটার উপর দিয়ে। অনলাইন জগত গরম করে ফেলে ছেলেটাকে নিয়ে। ষাঁড়, বলদ, স্যার, মালাউন, হিন্দু কোটায় খেলে, লর্ড ইত্যাদি তকমা সেঁটে দেয় ছেলেটার নামের পাশে। নিজের পছন্দের জায়গা হারিয়ে ভিন্ন জায়গায় খেলার চাপ আর ভার্চুয়াল জগতে লোকজনের হাসি ঠাট্টার চাপ সব চাপ একত্রিত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরে ছেলেটি। তার সাথে যেমনটা হয়েছিল মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরাটা স্বাভাবিক। তারপর একপর্যায়ে দল থেকে বাদ পরে ছেলেটি। দল থেকে বাদ পরার পর খানিকটা লোক চক্ষু আর মিডিয়ার আড়ালে থেকে যায়। ঘরোয়া ক্রিকেটেও পারফর্মের খবর আসেনা। পরে সব মানসিক চাপ কাটিয়ে গত এনএসিএলের মাধ্যমে আবারো নিজেকর হাইলাইট করতে সক্ষম হয় ছেলেটা। তারপর ঘরোয়া সব টুর্নামেন্টে নিয়মিতভাবে মাঝারি মানের পারফর্ম করে চলেছে। যার প্রতিফলন সদ্য শুরু হওয়া বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের প্রথম ম্যাচেই দেখিয়েছে।

জানি বর্তমানের পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় দলে ফেরাটা তোমার জন্য যতটা কষ্টকর ঠিক ততটাই অবাস্তব। অবাস্তব বললাম কারন বাস্তবতা তোমাকে জাতীয় দলে চায়না। যে নাসিরের কথিত ফ্যানগুলো তোমাকে বিভিন্ন নেক্কারজনক উপাধি দিয়েছিল সেই নাসিরের দলে ফেরাটাই এখন অসাধ্য সাধনের মতো। উদীয়মান সাব্বির, মোসাদ্দেকেরা নিজেদের হারিয়ে খুজতেছে জাতীয় দলের ছায়ায়। এই অবস্থায় তোমার ফেরাটা খুবই কষ্টকর। কষ্টকরের মূল কারনটা হলো কথিত ফ্যানবেজ যারা নিজের নামের পাশে টাইগারিয়ান্স লাগিয়ে নিজেদের একেকটা বড় বড় ক্রিকেটবোদ্ধা মনে করে। সেই তারা ৮০% তোমাকে সহ্য করতে পারেনা। তারা শুধু খারাপ সময়ের তোমাকে দেখেছে। খারাপ সময়ের কারনটা দেখেনি। দেখিনি প্রথম দিকের তোমাকে। দেখেনি সেই তোমাকে যাকে ঘরোয়া ক্রিকেটের সাকিব আল হাসান বলা হতো। তাদের কাছে তুমি মানেই এক হাসির পাত্র। তুমি বলতেই ওরা ষাঁড়, লর্ড, স্যার বোঝে।

যাইহোক তোমার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো প্রিয় শুভাগত হোম চৌধুরি। জাতীয় দলে আবারো ফিরবে। আবারো দেশের জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবে। নিজের চিরচেনা চোখ জুড়ানো শটে মন ভরাবে আমাদের। সেই কামনা করি। আর হ্যাঁ অবশ্যই চিরচেনা টপ মিডল অর্ডারের নিঁখাদ ব্যাটসম্যান কাম পার্ট টাইম অফ স্পিনার শুভাগত হিসেবে ফিরে আসবে। একজন কথিত দেশসেরা অফ স্পিনার হিসেবে নয়। ভালোবাসা রইলো প্রিয় দাদা ।

লেখক: আরাফাত হোসেন রকি।

     এ জাতীয় আরও খবর
Vladimir Ducasse Jersey