,

ফুটবলে আমাদের ‘ঈশ্বর’ তরফদার মো. রুহুল আমিন!

News
তরফদার মো. রুহুল আমিন। ছবি: ইন্টারনেট

ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনাকে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। ঈশ্বরের পর্যায়ে যারা তাদের আসলে দেখার সৌভাগ্য কজনার হয়! ফুটবল সম্রাট কালো মানিক অর্থাৎ পেলেকেও কাছ থেকে দেখিনি কিংবা সক্রেটিস, বেকেনবাওয়ার, ইউসেবিওদেরও নয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন এই শতাব্দীর সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তাকেও সরাসরি দেখার সুযোগ-সৌভাগ্য হয়নি। হালের আরেক সেনসেশান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ম্যারাডোনা, মেসি, পেলেরা মাঠে অনন্য-অনবদ্য পারফরম্যান্সে মানুষের মনে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন, পেয়েছেন ফুটবলে ঈশ্বরতুল্য উপাধি।

আমাদের দেশের ফুটবলাররা মেসি, রোনালদো, ম্যারাডোনাদের পর্যায়ে যেতে পারেননি। তবে এক সময় এদেশের ছেলেরা ফুটবলটা ভালোই খেলত, নামডাকও খারাপ ছিল না। হারানো সেইদিন আবার কবে ফিরবে- এমন হা-পিত্যেশ কান পাতলেই শোনা যায়! মানি বর্তমান সময় আমাদের ফুটবলে অনুকূল নয়। কিন্তু গর্ব করার মতো একেবারে কিছুই নেই এমনও নয়। ফুটবলে আমাদেরও একজন ‘ঈশ্বর’ আছেন। যিনি মাঠের ঈশ্বর গড়ে তোলার জন্য রাতদিন মাঠের বাইরে পরিশ্রম করে চলেছেন। যিনি মাঠে ফুটবল সচল রাখার জন্য দেশব্যাপী চষে বেড়াচ্ছেন। যিনি আমাদের ফুটবলের ‘লাইফলাইন’ অর্থাৎ তৃণমূলের ফুটবলার তুলে আনতে রীতিমতো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

মানিক বন্দোপাধ্যায় তার ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসে লিখেছিলেন, ‘ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্রপল্লীতে; এখানে (জেলে পাড়ায়) তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’ চরণদ্বয়ে ঈশ্বরের প্রতি রাগ-ক্ষোভ একেবারে উগলে দিয়েছেন মানিক দা। তবে আমি যে ঈশ্বরকে চিনি, যার কথা এতক্ষণ বলার চেষ্টা করছি, যিনি আমাদের ফুটবল ঈশ্বর- তিনি শুধু ভদ্রপল্লীর জন্যই নন; সাধারণ বস্তিবাসীরও। বুঝতে কষ্ট হচ্ছে! আচ্ছা পরিস্কার করেই বলছি। ফুটবলে প্রিমিয়ার লিগ যদি হয় ভদ্রপল্লী, তাহলে তৃতীয় বিভাগ, পাইওনিয়ার লিগ তো বস্তিই! আমাদের ফুটবল ঈশ্বর যেমন প্রিমিয়ার লিগের জন্য, তেমনি পাইওনিয়ার, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগেও রয়েছে তার সমান চোখ।

ফুটবলে তার সরাসরি সম্পৃক্তরা চার বছরের মতো। তবে তারও আগ থেকে ফুটবলে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটিতে আসার পর মূলত তাকে চেনা-জানা। এরপর দ্রুতই ফুটবলে নিজের জন্য আলাদা এবং অনন্য এক জায়গা করে নেন তিনি। নিজের ক্যারিশমা, মেধা, যোগ্যতা, ফুটবলে সময়োপযোগী চিন্তা-চেতনা, নেতৃত্ব- এসব গুণাবলীই মূলত তাকে আর সবার কাছ থেকে আলাদা করে নেয়। তার মতো ফুটবল নিয়ে ভাবনা, ফুটবলের উন্নয়নে চিন্তা এবং সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার মানসিকতা, ফুটবলীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, একই সঙ্গে বাস্তবায়ণ- সত্যি বলতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

অতীতে দু’চারজন ফুটবল অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। যারা ভিত গড়ে দিয়ে গেছেন। মাঝে কিছু লোক শুধু সুবিধাই নিয়ে যাচ্ছে। পদ-পদবী আঁকড়ে ধরে বসে আছে। ফুটবলের উন্নয়ন-উন্নতির কোনো ভাবনা তাদের নেই। দুহাতে সব লুটে পুটে খাচ্ছে। আমাদের ফুটবল ঈশ্বরই একমাত্র ব্যতিক্রম; যিনি ভুল সময়ে ফুটবলে এসেও সঠিক কাজ করতে এতটুকু পিছপা হচ্ছেন না; কোনো বাধা বিপত্তিই তাকে তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে এক চুল টলাতে পারছে না, পারবেও না।

অমর্ত্যের ঈশ্বর যেমন পূজনীয়, মর্ত্যলোকে দু’চারজন যারা ভালো কাজ করেন তারাও মানুষের দ্বারা সম্মানিত হোন, শ্রদ্ধার জায়গায় বাস করেন। আমাদের ফুটবল ঈশ্বর অর্থাৎ তরফদার মো. রুহুল আমিন ভাইও শ্রদ্ধা-ভালোবাসাতুল্য ব্যক্তিত্ব। আমাদের সকলের প্রিয় আমিন ভাই। আজ প্রিয় বড় ভাইয়ের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন প্রিয় আমিন ভাই। আমাদের রুগ্ন, মৃতপ্রায় ফুটবলে প্রাণের সঞ্চার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দোয়া করি আপনার মহতী যাত্রা যেন চলমানই থাকে। মহান আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘজীবি করুন- জন্মদিনে এমনই প্রার্থনা…

লেখক: ক্রীড়া সাংবাদিক মামুন হোসেনের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

     এ জাতীয় আরও খবর
Vladimir Ducasse Jersey