,

এএফসি কাপের নকআউটপর্বে আবাহনী

News

এএফসি কাপে ইতিহাস গড়ল আবাহনী। গ্রæপপর্বের বাধা পেরিয়ে পা রাখল নকআউটপর্বে (দ্বিতীয় রাউন্ডে)। ভারতের মাটিতে ভারতেরই ক্লাব মিনার্ভা পাঞ্জাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি কাপের পরের রাউন্ডে বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। মাসি সাইঘানির শেষ মুহূর্তের করা গোলে ক্লাব ফুটবলে নতুন ইতিহাস রচনা আবাহনীর

এএফসি কাপে এবার ‘ই’ গ্রæপ থেকে অংশ নেয় আবাহনী। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারতের দুই ক্লাব মিনার্ভা পাঞ্জাব ও চেন্নাইন এফসি এবং নেপালের ক্লাব মানাং মার্সিয়াংদি। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী গ্রæপের সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল পাবে পরের রাউন্ডের টিকিট। সেই হিসাবে রেস থেকে আগেই ছিটকে পড়ে মিনার্ভা ও মানাং। শেষতক লড়াইটা ছিল আবাহনী ও চেন্নাইনের মধ্যে। মিনার্ভার বিপক্ষে কাল মাঠে নামার আগে আবাহনীর পয়েন্ট ছিল ৫ ম্যাচে ৩ জয়, ১ হার এবং ১ ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট। টেবিলের শীর্ষে অবস্থান। সমান সংখ্যক ম্যাচে চেন্নাইনের ছিল ৮ পয়েন্ট (৩ জয়, ২ ড্র এবং ১ হার)। ৫ ম্যাচে পাঞ্জাবের ছিল ৫ পয়েন্ট এবং মানাং মাত্র ২।

জয় ভিন্ন বিকল্প পথ ছিল না আবাহনীর। ড্র করলে তাকিয়ে থাকতে হতো চেন্নাইন এবং মানাংয়ের ম্যাচের দিকে। এত সমীকরণের বেড়াজালে জড়াতে হয়নি। সহজ জয়ে ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটপর্বে আবাহনী। ঢাকার জায়ান্টদের জয়ে কপাল পুড়েছে চেন্নাইনের। আবাহনীর মতো আজ চেন্নাইনের ম্যাচও ছিল। নেপালের ক্লাব মানাং মার্সিয়াংদিকে ৩-২ গোলে উড়িয়ে দারুণ জয় পেলেও কাজের কাজ হয়নি। কারণ ৬ ম্যাচ চেন্নাইনের পয়েন্ট ১১। ভারতের ক্লাবটির চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে এএফসি কাপে আবাহনীর বাজিমাত।

মিনার্ভার বিপক্ষে প্রথম লেগে জিততে পারেনি আবাহনী। ঘরের মাঠ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ওই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করে। ভয়টা এখানেই বেশি ছিল। যে দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জিততে পারেনি; তাদের মাটিতে জয় কতটা সম্ভব? অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে আবাহনী। আসামের গোয়াহাটি ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জয়ের নিশানা উড়িয়েছে মারিওর দল। দলের দুই বিদেশি এই ম্যাচে আবাহনীর ডেরায় ছিল না। ভিসা জটিলতায় ভারতের যেতে পারেননি নাইজেরিয়ান সানডে সিজোবা; ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন ব্রাজিয়ান মিডফিল্ডার ওয়েলিংটন প্রিওরি। এছাড়া আবাহনীর দেশি দুই স্তম্ভ মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ এবং ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ইনজুরিতে আগেই দলের বাইরে। এত সব প্রতিবন্ধকতাও আকাশী-নীলের জয়ে বাধার দেয়ার তুলতে পারেনি।

শুরু থেকেই পাঞ্জাবের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে আবাহনী। সমানতালে লড়ে স্বাগতিক ক্লাবও। প্রথমার্ধে দুদলই গোলের বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই অবস্থা। গোলের জন্য দুই দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের হা-পিত্যেস করতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ম্যাচটি যখন গোলশূন্য ছিল, ড্রয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক ওই সময় ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন আবাহনীর বিদেশী রিক্রুট মাসিহ। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে (৯০+৩) জীবনের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল প্রথমে বেলফোর্ড চেষ্টা করেন। কিন্তু বেলফোর্ডের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও শূন্য ভাসা ওই বলেই হেডে পাঞ্জাবের জাল কাঁপান মাসিহ।

     এ জাতীয় আরও খবর
Vladimir Ducasse Jersey