,

আল আমিন বাজিতে জিতলেন সিলেটের অধিনায়ক ওয়ার্নার

News

কোনো উইকেট নেই, ৪ ওভারে খরচও করেছেন ৫৭ রান। তার আগে তিন ওভার পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে দিয়েছেন ৩৯ রান। মেডেন ওভার থাকাটা অনেক দূরের কথা তখন। অথচ এমন খরুচে বোলারের হাতেই শেষ ওভারে বল তুলে দিলেন সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। সেই বাজিতে তিনি অবশ্য জিতেও গেছেন।

শেষ ওভারে ১৮ রান দিয়েছেন আল আমিন। ভাইকিংসদের লক্ষ্য শেষ ওভারে ২৪ রান হওয়াতে সিলেট জিততে পেরেছে ৫ রানে। অথচ তখনো ওয়ার্নারের হাতে আরো অনেক বোলারই ছিলেন। আগের ম্যাচে শেষ ওভারে তিনি বল তুলে দিয়ে ছিলেন অলক কাপালীর হাতে। শেষ ওভারে ওই ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রয়োজন ছিলো ৭ রান। অলক কাপালীর করা শেষ ওভারে জিততে স্মিথদের অপেক্ষা করতে হয়েছে পঞ্চম বল পর্যন্ত।

বুধবারের ম্যাচেও কাপালী বেশ সফল ছিলেন। ২ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে নিয়ে ছিলেন ২ উইকেট। আফিফ হোসেন ধ্রুব মূলত বোলারই। কিন্তুু তিনি এখন পর্যন্ত ব্যাটসম্যানশীপেই আধিপত্য করছেন ষষ্ঠ বিপিএলে। ভাইকিংসদের বিপক্ষেও তিনি এক ওভার বোলিং করে খরচ করেছেন মাত্র ৬ রান। তাছাড়া অন্য বোলাররাও তাসকিনের চেয়ে ভালই করেছেন। তবুও ওয়ার্নার আল আমিনের হাতে বল তুলে দিয়ে সফল হলেন।

প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচ ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত খেলেই ভাইকিংসদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে তাঁরা। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে সিক্সার্স কাগজে-কলমেও বেশ শক্তিশালী।

সিলেট সিক্সার্স এতোটাই ভালো দল যে গত আসরের পরীক্ষিত ক্রিকেটার আন্দ্রে ফ্লেচারকে এখনো একাদশেই নিতে পারেনি। অথচ পঞ্চম বিপিএল সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন ছিলেন এই ফ্লেচার। সিক্সার্সের ওপেনার জুটিই ছিলো বিপিএলের সেরা ওপেনিং জুটি।

যদিও উপুল থারাঙ্গার বিদায়ে সেই সেরা জুটি এই আসরে পায়নি। তবুও ফ্লেচারকেতো রেখেছে দলটি। কিন্তুু এই ব্যাটসম্যানকে মাঠেই নামাতে পারছে না। সোহেল তানভীরের মতো পরীক্ষিত বোলারকেও বসে থাকতে হচ্ছে সাইড বেঞ্চে। তরুণ লেগ স্পিনার সন্দীপ লামিচানকে একাদশে জায়গা দিতে ইমরান তাহিরের মতো বোলারকেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে মাঠের নামার জন্য।

প্রথম ম্যাচে অবশ্য উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেটহীন থেকেছেন নেপালের বিস্ময়কর বালক, ক্রিকেট বিশ্বের আগামির তারকা হতে যাওয়া লামিচান। ৪ ওভার বল করে ২১ রান দিলেও মুশফিকদের কোন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠাতে পারেননি এই তরুণ।

সিলেটের প্রথম ম্যাচে বসে থাকতে হয় নাসির হোসেনকেও। গতবারের অধিনায়কও রোববার মাঠে নামতে পারেননি। তরুণ তৌহিদ হৃদয় সেদিন ভুল না করলে আর ব্যাট হাতে পারফর্ম করলে হয়তো আজো বসে থাকতে হতো নাসিরকে।

তৌহিদ হৃদয় সেদিন দলের জন্য নিজেকে স্যাক্রিফাইস করেননি। উইকেটে নিজে টিকে থাকতে রানআউট করিয়ে ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৮ রান করে সিক্সার্স ভক্তদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। টি-২০ এই যুগে এমন টেস্ট মেজাজি ব্যাটিং কে মেনে নেবে!

নাসির হোসেনের কপাল তাই বুধবার খুলে যায়। তৌহিদ হৃদয়কে আউট করে টিম ম্যানেজম্যান্ট নাসির হোসেনকে একাদশে নেয়। আট মাস পর মাঠে নেমে সফল হতে পারেননি তিনি। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে বুধবার সিলেট সিক্সার্সের জার্সিতে মাঠে নামেন নাসির। তাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন নাঈম হাসান। মাত্র তিন বল খেলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ৩ রানে আউট হয়েছেন। নাঈমের বলে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন সিলেটের হয়ে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা এই তারকা।

বুধবার চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ দিয়ে আট মাস পর ২২ গজের ময়দানে দেখা গেল নাসিরকে। গত বছরের ৫ এপ্রিল সবশেষ খেলেছেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনীর এই অলরাউন্ডার লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সুপার লিগের ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১২৯ রান। এরপর পাওয়া চোটে ছিটকে যান নাসির।

বিপিএল দিয়ে আবারো ক্রিকেটে ফিরলেন। অফ ফর্ম ও চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারের জন্য বিপিএল বড় সুযোগ। ঘরোয়া ক্রিকেটে জণপ্রিয় এই আসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারলে হয়তো জাতীয় দলের বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজাটা আবারো খুলতে পারে। নাসিরও সে চেষ্টাই নিশ্চয় করছেন। তবে শুরুতেই তো ধাক্কা খান। প্রথম ম্যাচে কোথাও ছিলো না নাসিরের নাম। টিম হোটেলে বন্দী ছিলেন তিনি! চিটাগং ভাইকিংস ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেলেও ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারলেন না। অনেকেই নাসিরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি দেখছেন। তারা বলছেন, হয়তো জাতীয় দলে আর দেখা যাবে না একসময়ের ‘ফিনিশার’কে!

জাতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে উঠার জন্য আরো বেশ কয়েকটি কারণ আছে নাসির হোসেনের। মাঠের বাইরেও তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। একজন উঠতি মডেলের সঙ্গে তার বেফাঁস কথা বার্তার অডিও ছড়িয়েছে সর্বত্র। ফাঁস হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষুদে বার্তাও।

সব কিছু মিলিয়ে সময়টা বেশ ভালো যাচ্ছে না সিক্সার্সের সাবেক অধিনায়ক নাসির হোসেনের। সমর্থকদের প্রত্যাশা দলে শীঘ্রই ফিরবেন ফর্মে। সিক্সার্সও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যাবে সামনে।

এবার সিলেট সিক্সার্স শিরোপা প্রত্যাশী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্বমানের তারকাদের পাশাপাশি দেশীয় তরুণদের দলে বেড়ানো দলটি বেশ শক্তিশালী। রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে দেওয়া চিটাগাং ভাইকিংসকে হারিয়ে সেটিরই জানান দিলে প্রকৃতি কন্যা সিলেটের দলটি।

     এ জাতীয় আরও খবর
Vladimir Ducasse Jersey